
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসনে বিজয়ী হয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মুফতি আবুল হাসান। দীর্ঘদিন মসজিদের মিম্বর থেকে ইমামতি ও খতিবের দায়িত্ব পালন করা এই আলেম এবার সরাসরি জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন জনপ্রতিনিধি হিসেবে। তার এই যাত্রাকে অনেকেই দেখছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সিলেট-৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বেসরকারিভাবে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও খেলাফত মজলিস-এর নেতা মুফতি আবুল হাসান ‘দেয়াল ঘড়ি’ প্রতীকে ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উবায়দুল্লাহ ফারুক ‘খেজুরগাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৭৪ ভোট। ফলে ৯ হাজার ৫৮১ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন মুফতি আবুল হাসান।
পেশাগত জীবনে মুফতি আবুল হাসান একজন ইমাম ও খতিব। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন ইসলামী বক্তা হিসেবেও পরিচিত মুখ। নির্বাচনের পরদিনও তাকে মসজিদে ইমামতি করতে দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের কাছে তার ব্যক্তিত্বকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
নির্বাচনে জয়ের পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “আল্লাহর রাসূল (সা.) মিম্বর থেকেই দেশ পরিচালনা করেছেন। আমরা তো ওই রাসূলের উম্মত। সেই হিসাবে মসজিদের মিম্বর থেকে আলহামদুলিল্লাহ আজ সংসদ ভবন পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছি দেশের খেদমত করার জন্য, মিল্লাতের খেদমত করার জন্য। আমরা চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।”
নিজ নির্বাচনী এলাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তার প্রধান লক্ষ্য। যেসব খাতে এই অঞ্চল পিছিয়ে রয়েছে, সেসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন—এই বিষয়গুলো তার অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর। তিনি সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের মাঝরগ্রামে এক ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্ম নেন। তার পিতা মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ এবং মাতা মোছাম্মাৎ আছারুন বিবি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন।
রাজনৈতিকভাবে তিনি সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন। ১৯৯৩ সালে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার পর বর্তমানে তিনি জকিগঞ্জের জামিয়া ইসলামিয়া দারুসসুন্নাহ মোহাম্মদিয়া লামারগ্রাম মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। পাশাপাশি ২০০০ সালের জুন মাস থেকে এখন পর্যন্ত জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-এর ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মসজিদের খতিব থেকে জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়া মুফতি আবুল হাসানের এই উত্থান স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অনেকের মতে, তার এই বিজয় ধর্মীয় নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের মধ্যে একটি নতুন সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, যা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।