
নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে, এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিষয়টি এখনই কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছে। সূত্র মতে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন দায়িত্ব পালন করতে পারেন। এই পরিস্থিতিতে শপথ অনুষ্ঠান আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও শপথ নেবেন।
প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের সূত্র জানায়, নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি নিতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগে। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর শপথ অনুষ্ঠান সিইসির মাধ্যমে আয়োজন করা হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ দেওয়া উচিত বিদায়ী স্পিকারের মাধ্যমে। বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন, তাই এই দায়িত্ব অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, যদি তিন দিনের মধ্যে শপথ অনুষ্ঠান না হয়, তবে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এই দায়িত্ব নিতে পারেন।
বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকার কারণে বিকল্প সাংবিধানিক পথ জটিল হয়ে পড়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে স্পিকারের মনোনীত ব্যক্তি শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারেন। তবে রাজনৈতিক মহলে এ বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব বিরাজ করছে।
আইন বিশ্লেষকেরা বলছেন, শপথ অনুষ্ঠান কেবল সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ ভেঙে যাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এবারের নির্বাচন সেই কাঠামোর বাইরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে শপথ অনুষ্ঠানও রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান সম্ভব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি দলগুলো বিকল্প প্রস্তাবে সম্মতি দেয়, তবে তিন দিনের অপেক্ষা ছাড়াই শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ–অভ্যুত্থানের পর সরকার পতন ঘটে এবং ৬ আগস্ট সংসদ ভেঙে যায়। প্রায় দেড় বছর পর তফসিল ঘোষণা করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৯৭টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় দুটি আসনের গেজেট প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।
ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয় লাভ করেছে। তাদের মিত্ররা আরও তিনটি আসনে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকদের ঝুলিতে গেছে আরও ৯টি আসন।
সংক্ষেপে, নতুন সরকার দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে চাইছে। শপথ অনুষ্ঠান এবং মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণ আগামী কয়েক দিনে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষভাবে, সিইসির মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করার প্রস্তাব রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।