
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে বেসরকারিভাবে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপি প্রার্থী ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। নির্বাচনে তার বড় জয়ের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে—তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
দলীয় একাধিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশান কার্যালয়ে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা আসতে পারে এবং সেখানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন মেজর হাফিজ—এমন গুঞ্জনই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করা হয়নি।
ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নিজামুল হক নাঈম–কে ৯৬ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ পেয়েছেন ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট। অন্যদিকে ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। এ বড় ব্যবধান তার নির্বাচনী এলাকায় শক্ত অবস্থানেরই ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বেসরকারিভাবে বিজয়ী ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এই বিজয় আমার একার নয়, এটি লালমোহন-তজুমদ্দিনের মানুষের বিজয়। বারবার জনগণের কাছে যাওয়াই আমার রাজনীতির শক্তি।” তিনি আরও জানান, আগামীতেও মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় তিনি আপসহীন থাকবেন।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত একটি নাম। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় (২০০১-২০০৬) তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা থাকায় প্রশাসনিক কাজ ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তার দক্ষতা রয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ নিয়ে তিনি সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। ধারাবাহিকভাবে নির্বাচিত হওয়া তার এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ বহন করে। বিশেষ করে লালমোহন ও তজুমদ্দিন অঞ্চলে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তাকে ভোটারদের কাছে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় দেশের তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সমন্বয় এ মন্ত্রণালয়ের অধীনেই পরিচালিত হয়। ফলে এ দায়িত্ব পাওয়া যে কোনো রাজনীতিকের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি বড় চ্যালেঞ্জেরও।
তবে এখনো পর্যন্ত তার মন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভা ঘোষণার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এর আগে পর্যন্ত বিষয়টি গুঞ্জন হিসেবেই থাকবে।
সব মিলিয়ে, ভোলা-৩ আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান কি না, তা জানতে এখন অপেক্ষা মন্ত্রিসভা ঘোষণার।