
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। নির্বাচনে বিজয়ের পর তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে—এমন গুঞ্জনে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন।
দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট মহলের আলোচনা অনুযায়ী, খুব শিগগিরই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়ায় তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও গুলশান কার্যালয়ের একাধিক সূত্র এ সম্ভাবনার কথা বলছে।
ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রভিত্তিক প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, লুৎফুজ্জামান বাবর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আল হেলাল তালুকদার–কে ১ লাখ ২১ হাজার ৪২ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, বাবর পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৫১ ভোট, আর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৩০৯ ভোট। এ বিপুল ব্যবধান স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নির্বাচনের পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্ভাব্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাবর বলেন, “অতীতেও আমি কোনো কিছু চাইনি, এখনো আমি কিছু চাইব না। দল চাইলে মন্ত্রীত্বের দায়িত্ব দিতে পারে।” তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো পদ প্রত্যাশা করছেন না; বরং দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছেন।
তিনি দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছর কারাবন্দি থাকার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন। বলেন, “আপনারা জানেন, আমি বিনা অপরাধে সাড়ে ১৭ বছর জেল খেটেছি। ভাবিনি আবারও নির্বাচন করতে পারব।” নির্বাচন করতে পারা এবং জনগণের ভোটে বিজয়ী হওয়াকে তিনি আল্লাহর রহমত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তার প্রধান কাজ হবে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে বাবর বলেন, তার নেতা জনগণের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সুযোগ পেলে সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করবেন বলে জানান। তার মতে, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যে আস্থা প্রকাশ করেছেন, তা রক্ষা করাই এখন প্রধান দায়িত্ব।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের মতো বিষয়গুলো এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। ফলে এ পদে দায়িত্ব পাওয়া যে কোনো রাজনীতিকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ও দায়িত্বের বিষয়।
তবে এখনো পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার নাম নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। রাজনৈতিক মহল তাই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা এলেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
সব মিলিয়ে, বিপুল ভোটে বিজয়ের পর লুৎফুজ্জামান বাবরকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তিনি পাচ্ছেন কি না, তা এখন সময়ই বলে দেবে।