
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী কর্মীদের উদ্দেশে সংযম ও ইতিবাচক রাজনীতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিজয়ী হওয়ার অর্থ এই নয় যে অন্যদের ওপর অত্যাচার বা নির্যাতন চালাতে হবে। বরং নোংরা রাজনীতি বন্ধ করে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাদেরনগরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি কর্মীদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি আবেগঘন ভাষায় অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, তাদের দল ও পরিবার দীর্ঘদিন নানা ধরনের নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে। ফলে তারা ভালোভাবেই জানেন, রাজনৈতিক নির্যাতন একটি পরিবারের ওপর কতটা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনোভাবেই যেন প্রতিহিংসামূলক আচরণে জড়িয়ে না পড়েন।
তিনি বলেন, “আমরা অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। আমরা জানি এই ধরনের নির্যাতনে পরিবারের ওপর কী প্রভাব পড়ে। সেই কারণেই বলছি— নতুন রাঙ্গুনিয়া ও নতুন বাংলাদেশ। তার মানে নতুন রাজনীতি।” তার মতে, নতুন রাজনীতি মানে হবে সহনশীলতা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ।
নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতির জটিল তত্ত্ব তিনি হয়তো খুব বেশি বোঝেন না, তবে একটি বিষয় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন— রাজনীতি করতে হলে সাহস ও উদারতা থাকতে হয়। তার ভাষায়, “রাজনীতি করতে হলে শরীরের চেয়ে কলিজা বড় হতে হয়। আমরা এবার প্রমাণ করে দেব আমাদের কলিজা বড়।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি কর্মীদের উদার মানসিকতা ও সহিষ্ণুতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
অতীতের কষ্ট, বিভেদ ও ভুল বোঝাবুঝি ভুলে নতুনভাবে পথচলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। রাঙ্গুনিয়ায় রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সকলের অংশগ্রহণে উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
কর্মীদের উদ্দেশে হুম্মাম কাদের আরও বলেন, বিজয়ের পর তিনি অসংখ্য শুভেচ্ছা বার্তা পাচ্ছেন। অনেক নতুন মুখ ও নতুন নাম সামনে আসছে। তবে কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন, তারাই প্রকৃত সহযোদ্ধা—এ কথা তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, তার পরিবার কখনো বিশ্বাসঘাতকতা বা দ্বিচারিতার রাজনীতি করেনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি তার পিতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী–এর পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে যারা পাশে ছিলেন, তারাই প্রকৃত পরিবার এবং তাদের অবদান কখনো ভোলা যাবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের পরপরই কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশেষ করে বিজয়ের উচ্ছ্বাসে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার নির্দেশনা হিসেবে এ বক্তব্যকে দেখা হচ্ছে।
রাঙ্গুনিয়ায় আগামী দিনে উন্নয়ন ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, বিভেদ নয়—ঐক্যই হবে নতুন পথচলার ভিত্তি। তার এই আহ্বান স্থানীয় রাজনীতিতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।