
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় অমিতাভ চন্দ্র ওরফে সুজন মহুরী (৩৮) নামে এক আইনজীবীর সহকারীকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় আটটার দিকে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার বল্লমঝাড় গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত অমিতাভ চন্দ্র সুজন ওই গ্রামের সূর্য নিরঞ্জন চন্দ্র রায়ের ছেলে। তিনি গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতে আইনজীবীর সহকারী (মহুরী) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তিনি সুজন মহুরী নামেই পরিচিত ছিলেন।
বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান জানান, ঘটনার সময় সুজন নিজ বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাড়ির গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা পিছন দিক থেকে অতর্কিতভাবে তার মাথায় কুড়াল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।
সুজনের আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে গুরুতর জখম হওয়ায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।
পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন। নিহতের ভাই সুধান চন্দ্র রায় জানান, গত তিন থেকে চার বছর ধরে স্থানীয় নরেশ চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা ও হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আলামত সংগ্রহ করে। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ববিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, বাড়ির ভেতরে ঢুকে এভাবে হামলা চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। পূর্ববিরোধের অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। পুলিশ বলছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাইবান্ধার এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন নজর থাকবে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা যায় কি না।