কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশনে আন্তঃনগর ট্রেন মেঘনা এক্সপ্রেস–এ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। ইঞ্জিন সংযোগের সময় বগির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগায় একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। এতে এক রেলকর্মীসহ মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার ফলে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চাঁদপুরগামী ট্রেনটি রাত পৌনে ৮টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশনের ৫ নম্বর লাইনে প্রবেশ করে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী যাত্রার জন্য ট্রেনটিতে ইঞ্জিন সংযোগের কাজ চলছিল। এ সময় হঠাৎ করেই ইঞ্জিন ও বগির মধ্যে জোরালো ধাক্কা লাগে।
ধাক্কার তীব্রতায় একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই চট্টগ্রাম-চাঁদপুর লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ওই রুটে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনের সময়সূচিতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। তবে জংশনের দুটি মেইন লাইন সচল থাকায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মামুনসহ পাঁচজন আহত হন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কারও অবস্থা গুরুতর নয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
লাকসাম জংশনের ট্রেন এক্সামিনার এস এম আক্তার হোসেন জানান, রেক সংযুক্তির সময় ইঞ্জিনটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। ইঞ্জিন সংযোগ একটি সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, যেখানে নির্দিষ্ট গতি ও সতর্কতা অনুসরণ করা প্রয়োজন। সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণজনিত ত্রুটির ফলেই ইঞ্জিনের ধাক্কা লেগেছে।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন লাকসাম লোকশেডে প্রস্তুত থাকলেও ইঞ্জিন সংকটের কারণে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা যায়নি। পরবর্তীতে আখাউড়া লোকোশেড থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিকল্প ইঞ্জিন পৌঁছানোর পর উদ্ধার কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনচ্যুত বগি সরিয়ে দ্রুত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
লাকসাম রেলওয়ে জংশন দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ রেল সংযোগস্থল। চট্টগ্রাম ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটের ট্রেন এখানে চলাচল করে। ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা সাময়িকভাবে হলেও যাত্রীসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে ইঞ্জিন সংযোগ বা রেক সংযুক্তির সময় এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে পূর্ণাঙ্গ ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
