
ভোলার আলীনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আলীনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। এতে ভোট দিতে আসা লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ভোটগ্রহণ প্রায় দেড় ঘণ্টা বন্ধ থাকে।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মো. ওমর ফারুক জানান, সকাল থেকে কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছিল। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত স্কুল গেটে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর প্রায় ৬০–৭০ জন দুর্বৃত্ত মহিলা ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ঢুকে ব্যালট ছিনতাই এবং সিল দেওয়ার চেষ্টা করে।
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলে তারা আসার আগেই দুর্বৃত্তরা ব্যালট পেপার ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ৭৬টি ব্যালট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্টো-পাল্টা সিল দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অধিকাংশ ব্যালটে গরুর গাড়ি প্রতীকে সিল দেওয়া ছিল। ৫৬টি ব্যালট ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর দুপুর ৩টার দিকে ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু হয়।”
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুজ্জামান বলেন, “সকাল থেকে সকল কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। এই কেন্দ্রটিতে দুর্বৃত্তরা ব্যালট ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে। ৭৬টি ব্যালট বাতিল করা হয়েছে। কিছু ব্যালট ছিনতাই হয়েছে, তবে পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।”
ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা গেছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলার এই ঘটনা নির্বাচনী অস্থিরতার ঝুঁকি উস্কে দিয়েছে। ভোটকেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণ ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় ভোটাররা ভয়ভীতি দেখেছে। নির্বাচন কমিশন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে তৎপর থাকতে হবে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন।