
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে এক যুবককে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নাজমুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকের নাম মো. অনিক হোসেন (২৮)। তিনি মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ ইউনিয়নের কাটদহচর গ্রামের বাসিন্দা এবং আজগর রহমানের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোট প্রদান শেষে অনিক হোসেন ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্য তাকে কেন্দ্র ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে অনিক হোসেন ওই পুলিশ সদস্যকে অবমাননাকর ভাষায় সম্বোধন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ওই পুলিশ সদস্যকে ‘দুই টাকার পুলিশ’ বলে মন্তব্য করেন। এতে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ভোটকেন্দ্রে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাকে আটক করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক নাজমুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাচন আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় অনিক হোসেনকে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম জানান, ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ভোট প্রদান শেষে কোনো ভোটার বা ব্যক্তি কেন্দ্রের ভেতরে অযথা অবস্থান করতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সবাইকে কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।
এ ঘটনায় ভোটকেন্দ্রে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।