
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে ভোট ডাকাতির অভিযোগ উঠলে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না এবং এর দায় সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে বের হওয়ার সময় এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই তার মাথায় আঘাত করা হয়। পরে বিষয়টি সেনাবাহিনীকে জানালে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনে দুটি কেন্দ্রকে তারা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এগুলো হলো—রেলওয়ে কলোনী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্র। তার অভিযোগ, এই কেন্দ্রগুলোতে ভোট ডাকাতির চেষ্টা চলছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংঘর্ষ সৃষ্টি করে নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
তিনি মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ করে বলেন, হারার ভয় থাকলে নির্বাচন বানচালের পথে না যাওয়ার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, গণতন্ত্র রক্ষায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছে, সেই ত্যাগকে ব্যর্থ করা উচিত নয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এখন পর্যন্ত তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যেতে চাননি। তবে বারবার আঘাতের শিকার হলে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করা হবে বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “এখন সময় প্রতিরোধের। যদি ঢাকা-৮ আসনে ভোট ডাকাতির চেষ্টা হয়, তাহলে আমরা চুপ করে থাকবো না।” তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফলাফল যাই হোক, তা মেনে নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু কর্মী পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। তবে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ থাকলে কোনো পক্ষই ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনকে ঘিরে এমন বক্তব্যের ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চলমান আছে।