
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নীলফামারীর সৈয়দপুরে দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী ও অনুপ্রেরণামূলক দৃশ্য। নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঠিক আগে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বর মো. সামিউল ইসলাম (৩২)। জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনে নাগরিক দায়িত্বকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে সামিউল ইসলামের কনের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, ভোট দেওয়ার মাধ্যমে নিজের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন করবেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিয়ের পোশাক পরেই তিনি সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন এবং নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে ভোট প্রদান করেন।
ভোট দেওয়া শেষে সামিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ভোট শুধু একটি অধিকার নয়, এটি আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, “জীবনের যেকোনো ব্যস্ত সময়েই ভোট দেওয়া উচিত। আজ আমার ব্যক্তিগত আনন্দের দিন, তবুও আমি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চেয়েছি। তাই আমার কাছে সিদ্ধান্তটা পরিষ্কার—আগে ভোট, পরে বিয়ে।”
সামিউল ইসলাম সৈয়দপুর উপজেলার নিয়ামতপুর সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনজুরুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, সামিউল শুরু থেকেই ভোট ও নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে সচেতন একজন মানুষ। বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তার সেই সচেতনতারই প্রতিফলন।
ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত অনেক ভোটার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বরের এই উদ্যোগ দেখে প্রশংসা করেন। অনেকেই বলেন, এমন উদাহরণ তরুণ প্রজন্মকে ভোটের প্রতি আরও আগ্রহী করবে। কেউ কেউ মোবাইলে ছবি তুলে এই মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক সময় বিয়ে, কাজকর্ম বা ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে মানুষ ভোট দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু সামিউল ইসলামের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করেছে, ইচ্ছা থাকলে যেকোনো পরিস্থিতিতেই ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্ভব।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণ চলাকালে এমন ইতিবাচক ঘটনা ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ বাড়ায়। বিশেষ করে তরুণদের জন্য এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
বিয়ের দিনের মতো ব্যক্তিগত আনন্দের সময়েও ভোট দেওয়ার মাধ্যমে সামিউল ইসলাম দেখিয়েছেন, গণতন্ত্র চর্চা কেবল রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, বরং ব্যক্তিগত মূল্যবোধেরও অংশ। তার এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং অনেকেই তাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, ‘আগে ভোট পরে বিয়ে’—এই বার্তায় সৈয়দপুরে মো. সামিউল ইসলাম শুধু নিজের ভোটাধিকারই প্রয়োগ করেননি, বরং নাগরিক দায়িত্ব পালনের একটি শক্তিশালী উদাহরণও স্থাপন করেছেন।