
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে এক বিএনপি নেতাকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের দারুস সুন্নত সিদ্দিকিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাহেরুল ইসলাম রায়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, ভোটগ্রহণ চলাকালে তাহেরুল ইসলাম অনুমতি ছাড়া নারী ভোটকক্ষে প্রবেশ করেন। এটি নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার শর্তে তার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে তাহেরুল ইসলাম দাবি করেন, ওই ভোটকেন্দ্রে জামায়াতের কিছু নারী কর্মী ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রি করছিলেন বলে তিনি দেখতে পান। তিনি বলেন, বিষয়টি ঠেকাতে গেলে তাকে অভিযুক্ত করা হয় এবং পরে জরিমানা করা হয়।
এদিকে একই দিনে বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় ভোটকেন্দ্র ঘিরে একাধিক উত্তেজনাকর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান অভিযোগ করেন, বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের মহিষবাথান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের সহযোগিতার জন্য স্থাপিত জামায়াতের প্যান্ডেলে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্যান্ডেল ভাঙচুর করে চেয়ার ও টেবিল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম নামের এক জামায়াত কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া মাহফুজার রহমান নামের আরেক জামায়াত কর্মীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় জামায়াত নেতারা। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। সকাল ১০টার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বগুড়া-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মীর শাহে আলমের নির্বাচনি এজেন্ট প্রভাষক নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মাঝিহট্ট ইউনিয়নের কেলুঞ্জা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী অফিস থেকে সেনাবাহিনী দুই বস্তা দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রামদা ও হাসুয়া রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
নজরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ভোটগ্রহণ চলাকালে এসব অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
বগুড়া-২ আসনে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।