
মেহেরপুরের মুজিবনগরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালীন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জয়পুর গ্রামে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে পাঁচজন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন, বিএনপি সমর্থক আশাদুল এবং জামায়াত চার সমর্থক বাইজিদ, আবু ওবাইদা, মাহাফিজুর রহমান রিটন ও আইনাল গাজী। পুলিশ দুই জামায়াত কর্মী—হরেন- শহিদুল ও আশরাফ হোসেনকে আটক করেছে।
মুজিবনগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, “সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে জয়পুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে চালু থাকে।”
পুলিশের বরাত দিয়ে জানা যায়, সংঘর্ষ মূলত ভোট কেন্দ্রের ১০০ গজ দূরে ঘটে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহতরা মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
এ ঘটনার পরও মুজিবনগরের অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নির্বাচন সংক্রান্ত প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয়রা বলছেন, “দীর্ঘ সময় পর ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েও এমন সংঘর্ষ দেখা দুঃখজনক।” জেলা প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যাতে ভোটাররা নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
মেহেরপুরের মুজিবনগর ঘটনায় দেখা গেছে, ভোটের দিনেও রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভোট কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি বজায় রাখছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচনের গুরুত্ব ও ভোটাধিকার প্রয়োগের দায়িত্ব পুনরায় স্মরণ করানো হলো। নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। ভোটাররা আশা করছেন, নির্বাচন শেষে ফলাফল গ্রহণযোগ্য হবে এবং ভোটের উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে।