
নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি বা টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
ইসি সানাউল্লাহ জানান, তিনি পরিদর্শন করা কেন্দ্রে প্রথম এক ঘণ্টায় প্রায় ১৫০ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন। ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো কোনো অভিযোগ এখনও আসেনি। তিনি উল্লেখ করেন, সারা দেশ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি ধীরে ধীরে বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশনার শহর এলাকার ভোটাররা সাধারণত কিছুটা দেরিতে কেন্দ্রে আসেন—এটি একটি ‘হ্যাবিট’ (অভ্যাস) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে গ্রামাঞ্চলের অনেক কেন্দ্রে সকাল থেকেই উল্লেখযোগ্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ভোটার তালিকায় নাম না পাওয়া বা কারিগরি জটিলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হাজারে একটি টেকনিক্যাল গ্লিচ হতে পারে। বিশেষ করে মাইগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যাগুলো ডাবল চেক করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোনো অসাধু উদ্দেশ্যে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে কেউ সফল হতে পারবে না। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। বিভিন্ন স্থানে টাকা লেনদেনের সময় অভিযুক্তদের আটক হওয়ার বিষয়টি তিনি ‘ভালো লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেন। এর মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও যৌথবাহিনী সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইসি সানাউল্লাহ ভোটারদের উদ্দেশে আরও বলেন, “আপনারা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান নিশ্চিত করতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি তৎপর রয়েছে।”
এইবারের নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রগুলোতে ১৩–১৮ জন করে নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কমিশনারের এই সতর্ক বার্তা ভোটপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোটারদের সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং কোনো ধরনের অনৈতিক বা অবৈধ কার্যক্রম প্রতিহত করতে প্রস্তুত।