
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে ভোটারদের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ইসলামিক স্কলার ও আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারি। ভোট দেওয়ার পর তিনি নাগরিকদের প্রতি ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ বক্তব্য দেন। স্ট্যাটাসে ড. আজহারি লেখেন, “আমি ভোট দিয়েছি। আপনারাও ভোট দিন। নিজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করুন।”
ড. মিজানুর রহমান আজহারি তার বার্তায় বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ভোট দেওয়ার মাধ্যমেই জনগণ নিজেদের মতামত ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থা ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক হতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গণভোট প্রসঙ্গে আজহারি বলেন, গণভোটে উত্থাপিত বেশিরভাগ বিষয় ইতিবাচক এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ‘হ্যাঁ’ দেওয়া সবচেয়ে ভালো বিকল্প। তার মতে, রাষ্ট্র কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীভূতকরণ রোধ করতে চাইলে ভোট দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোতে নিজেদের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগানো প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
ড. আজহারি তার বক্তব্যে ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে যদি কোনো ধরনের মূল্যবোধবিরোধী আইন প্রণয়নের চেষ্টা করা হয়, তাহলে দেশের ধর্মপ্রাণ জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে সেটিকে প্রতিহত করবে। তিনি মনে করেন, জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণই এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় শক্তি।
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোট একটি নাগরিক অধিকার হলেও এটি একই সঙ্গে একটি দায়িত্ব। শান্তিপূর্ণ ও সচেতনভাবে ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়েই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করা সম্ভব।
ড. মিজানুর রহমান আজহারি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আপনার ভোটের মাধ্যমে নিজের অধিকার প্রয়োগ করুন এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ হোন। ভোট দেওয়া মানেই শুধু একজন প্রার্থীকে বেছে নেওয়া নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশগ্রহণ করা।
তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই তার আহ্বানকে সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল বার্তা হিসেবে দেখছেন। ভোটগ্রহণ চলাকালে এমন সচেতনতার আহ্বান ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।