
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বেলাল উদ্দিনের ব্যাগ থেকে জব্দ হওয়া নগদ টাকার গণনা শেষ হয়েছে। গণনা শেষে ওই ব্যাগে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা।
এর আগে বুধবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ বেলাল উদ্দিনকে আটক করা হয়। আটকের সময় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, তার ব্যাগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা থাকতে পারে। তবে পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে টাকা গণনার পর মোট ৭৪ লাখ টাকা উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বিমানযোগে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিয়মিত নিরাপত্তা তল্লাশির সময় তার সঙ্গে থাকা লাগেজে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ টাকা পাওয়া যায়। তল্লাশিকালে টাকার বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বেলাল উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা জানান, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ নিয়ে শুরুতে বিভ্রান্তি থাকলেও গণনা শেষে ৭৪ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ জাহিদুল ইসলামও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিপুল পরিমাণ নগদ টাকাসহ একজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া টাকার বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেন, ওই অর্থ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নয়। তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমিরের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা মূলত তার গার্মেন্টস ব্যবসার অর্থ। বিষয়টিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী সময়কালে বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও অর্থের উৎস নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে টাকার প্রকৃত উৎস ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হবে।