
বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলাম পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিভিন্ন পরিকল্পনা ইশতেহারে তুলে ধরেছে। বিএনপি ৫১ দফা পরিকল্পনায় বনায়ন, সবুজ কর্মসংস্থান, নবায়নযোগ্য শক্তি ও জলবায়ু অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। জামায়াত ২০৩০ সালের মধ্যে ‘থ্রি-জিরো ভিশন’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—শূন্য পরিবেশ অবক্ষয়, শূন্য বর্জ্য ও শূন্য বন্যা ঝুঁকি।
বিএনপির পরিকল্পনা:
বনায়ন ও সবুজ কর্মসংস্থান
৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য
প্রায় ৩.৫ লাখ ‘গ্রিন জব’ ও নার্সারি খাতে আরও ২.৫ লাখ কর্মসংস্থান
GIS প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাছ লাগানোর স্থান নির্ধারণ
গাছের অবস্থার জন্য ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ চালু
জ্বালানি ও কার্বন অর্থনীতি
২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২০% বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন
সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ
রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প পর্যালোচনা
কার্বন ক্রেডিট বাজার ও দেশে কার্বন ট্রেডিংয়ের জন্য MRV সিস্টেম
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
সার্কুলার ফিউচার মডেলের মাধ্যমে বর্জ্য অর্থনীতিতে রূপান্তর
ই-ওয়েস্ট রিসাইক্লিং সুবিধা, ২ লাখ অনানুষ্ঠানিক শ্রমিককে আনুষ্ঠানিক করা
৫ বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০% কমানো
বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প
জলবায়ু অভিযোজন ও কৃষি
১৯৯৭ সালের পানি কনভেনশন অনুযায়ী পদক্ষেপ
তিস্তা মেগা প্রকল্প ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন
বন্যাপ্রবণ এলাকায় উঁচু সড়ক, আশ্রয়কেন্দ্র ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা
২০৩৫ সালের মধ্যে ধানক্ষেতে পানি সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি
ব্লু ইকোনমি উন্নয়ন ও ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি
জামায়াতের থ্রি-জিরো ভিশন ২০৩০:
বন ও সবুজায়ন
বন উজাড় বন্ধ, দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো
নগর পরিকল্পনায় সবুজায়ন নিশ্চিতকরণ
জ্বালানি
বড় সৌরবিদ্যুৎ পার্ক ও ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ
পারমাণবিক শক্তি উন্নয়ন
আন্তর্জাতিক লবিংয়ের মাধ্যমে জলবায়ু অর্থ আদায়
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
প্লাস্টিক বোতল ডিপোজিট-রিটার্ন ব্যবস্থা
শহরে কম্পোস্টিং জোন, পলিথিনের বদলে পরিবেশবান্ধব বিকল্প
শিল্পে বাধ্যতামূলক বর্জ্য শোধনাগার
নদী পরিষ্কার (বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, কর্ণফুলী)
বন্যা ও কৃষি
ডাচ ডেল্টা মডেল অনুসারে বন্যা ব্যবস্থাপনা
ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণ
আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ডিজিটাল করা
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, কৃষিজমি ও মাটির উর্বরতা রক্ষা
নির্বাচনের আগে পরিবেশ ও জলবায়ু এখন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের পর এসব অঙ্গীকার বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে—সেটি এখন দেখার বিষয়।