
রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে বহুল আলোচিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তপশিল অনুযায়ী ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই শতাধিক আসনে জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। দলটির নীতিনির্ধারকদের মতে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে তারা অন্তত ২০০-এর বেশি আসনে জয় পেতে সক্ষম হবে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, আসনভিত্তিক প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও জনমত জরিপ শেষে ২২০ থেকে ২৩০টি আসনে দলটি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ২০০-এর বেশি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন একটি জোটও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
দলটির নেতারা মনে করছেন, সাধারণ ভোটার ও নতুন প্রজন্মের একটি বড় অংশ এবার তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এবারের নির্বাচনের পরিবেশ আগের তুলনায় ইতিবাচক এবং চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকায় অনিয়মের আশঙ্কা কম। ফলাফল যাই হোক, বিএনপি তা গ্রহণ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি এবারের নির্বাচনে এককভাবে এবং জোটগতভাবে অংশ নিচ্ছে। ৫১ দফার নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণদের কর্মসংস্থান, রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসনের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের নেতারা দাবি করছেন, তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি এবং সাম্প্রতিক গণসংযোগ কার্যক্রম তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যে কোনো বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষেই নির্বাচনের আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতার আশা করা স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ, নির্বাচনী পরিবেশ এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। তারা মনে করছেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যেদিকেই যাক না কেন, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সরকার গঠন হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার জন্য ইতিবাচক হবে।