
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে সারাদেশে নির্বাচনী নিরাপত্তা জোরদারে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ১ হাজার ১৯১টি স্ট্রাইকিং টিম। এসব টিম নির্বাচনী নিরাপত্তার একটি সুদৃঢ় কাঠামো হিসেবে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. আশিকউজ্জামান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সারাদেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে আনসার ব্যাটালিয়নের ১ হাজার ১৯১টি সশস্ত্র টিম স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ও নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ভোটকেন্দ্রসমূহকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় দুইটি করে এবং প্রতিটি জেলায় একটি করে আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
এসব স্ট্রাইকিং টিমের কার্যক্রম আনসার ভিডিপি জেলা কার্যালয়, রেঞ্জ কার্যালয় এবং সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিকভাবে নিবিড় তদারকির আওতায় রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করতে নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ডিজিটাল কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ‘নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রতিটি আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিমের একজন করে সদস্য রেসপন্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, তথ্য আদান-প্রদান এবং কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত হচ্ছে।
আনসার ভিডিপি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী—এই তিন ধাপে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্ট্রাইকিং টিমের সদস্যরা মাঠে সক্রিয় থাকবেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা, বিশৃঙ্খলা বা অপশক্তির অপচেষ্টা প্রতিহত করতে তারা সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।
সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনসার ব্যাটালিয়ন স্ট্রাইকিং টিম জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে।