
শহীদদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণ-আন্দোলন ও সংগ্রামে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব।
সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। ভাষণে তারেক রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘটিত আন্দোলন ও সংগ্রামে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন গণ-আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন এবং একটি প্রাণ হারানোর সঙ্গে সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়, যার পূর্ণ প্রতিদান কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, যারা আজ বেঁচে আছেন তাদের দায়িত্ব হলো শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভাষণে নারীর ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশের অর্ধেকের বেশি জনশক্তি নারীকে রাষ্ট্র, রাজনীতি ও অর্থনীতির মূলধারার বাইরে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে প্রথমবারের মতো প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলোর নারী প্রধানের নামে এই কার্ড ইস্যু করা হবে এবং মাসিক আর্থিক সহায়তা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতেও বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি রাষ্ট্রের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে বলে দলটি মনে করে।
ধর্মীয় ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে ইমাম, খতিব ও মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় দায়িত্ব পালনকারীরা সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তারেক রহমানের এই ভাষণটি সরাসরি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়।