
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে এক ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর অভিযানে আটক হওয়ার পর তাদের বড়লেখা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে তিনজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বড়লেখা উপজেলার গাজীটেকা আইলাপুর গ্রামের মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে ও বড়লেখা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নজমুল ইসলাম (৪৬), একই গ্রামের মৃত মজির উদ্দিনের ছেলে ও বড়লেখা সদর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আবু হানিফ জাকারিয়া (৩২) এবং গাজীটেকা গ্রামের মোস্তফা উদ্দিনের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. রাজু আহমদ (২৭)।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি তালিমপুর ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মো. সালমান হোসেনের বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলমের সন্ধানে সেনাবাহিনীর একটি দল তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। জাহাঙ্গীর আলমকে বাড়িতে না পেয়ে সেনা সদস্যরা সেখান থেকে ফিরে যান।
এই ঘটনার সুযোগ নিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অভিযুক্তরা জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে দেখা করেন। তারা দাবি করেন, নজমুল ইসলাম ও মো. রাজু আহমদের মাধ্যমে আবু হানিফ জাকারিয়া সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিষয়টি ‘সমাধান’ করে দিতে পারবেন। এর বিনিময়ে তারা ৩ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে অপূরণীয় ক্ষতির হুমকি দেন।
পরবর্তীতে ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কলের মাধ্যমে ভুক্তভোগীর ভাইকে বারবার টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা আড়াই লাখ টাকায় ‘সমাধান’ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কৌশলে পুরো কথোপকথন মোবাইলে রেকর্ড করে বড়লেখা সেনা ক্যাম্পকে বিষয়টি জানানো হয়।
অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সেনাবাহিনী অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই মো. সালমান হোসেন বাদী হয়ে রোববার বড়লেখা থানায় মামলা করেন।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।