
চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান লাগাতার ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টায় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহীম খোকন। এতে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পবিত্র রমজানে পণ্য খালাস ও জনস্বার্থ বিবেচনায় সোমবার সকাল ৮টা থেকে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত থাকবে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়, বন্দর কর্মচারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানিমূলক বদলি, সাময়িক বরখাস্তসহ পাঁচ দফা দাবি এই সময়ের মধ্যে সমাধান না হলে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়াসহ চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেন বন্দর কর্মচারীরা।
এদিকে বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এই বক্তব্যের পর আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বন্দরের কয়েকটি শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কারণে রোববার রাত ৯টার দিকে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা এবং শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করে রাত সাড়ে ১২টায় ধর্মঘট স্থগিতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।