
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ব্যবহারে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এমএফএসের মাধ্যমে একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, এই সিদ্ধান্ত আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে কার্যকর হবে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত এ সীমা বলবৎ থাকবে। নির্বাচনকালীন সময়কে বিবেচনায় রেখে এই সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমএফএসের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যেই দৈনিক লেনদেন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমার বাইরে কোনো লেনদেন অনুমোদন করা যাবে না এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বর্তমানে দেশে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ একাধিক এমএফএস সেবার মাধ্যমে দৈনিক বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে। বিশেষ করে নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে এসব সেবার ব্যবহার আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে অর্থের অপব্যবহার, অবৈধ লেনদেন বা অনাকাঙ্ক্ষিত আর্থিক কার্যক্রম ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানায়, এই সীমা সাময়িক এবং নির্বাচন শেষ হলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতের পর লেনদেনের সীমা স্বাভাবিক করা হবে কিনা, তা তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে জানানো হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনকালীন সময়ে এমএফএস লেনদেনে সীমা আরোপের ফলে আর্থিক কার্যক্রমে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে এটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক লেনদেনেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এটি একটি স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এমএফএস ব্যবহারকারীদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, লেনদেনের সময় নতুন সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক কার্যক্রম আগেভাগেই পরিকল্পনা করে নেওয়ার জন্য।