
ডাকসুর ভিপি ও বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক মোহাম্মদ আবু সাদিক কায়েম বলেছেন, জনগণ তাদেরই ভোট দেবে যাদের হাতে মানুষের জীবন ও সম্পদ নিরাপদ থাকবে। তিনি মনে করেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিরাপত্তা ও আস্থার প্রশ্ন।
রোববার কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ডাক বাংলা মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর–নিকলী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক রমজান আলীর পক্ষে এ জনসভার আয়োজন করা হয়। জনসভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি ছিল।
সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, একটি রাজনৈতিক দল গত দেড় বছরে নিজেদের অন্তর্কলহের কারণে প্রায় ২০০ জন কর্মীকে হত্যা করেছে। তিনি দলটির নাম উল্লেখ না করলেও বলেন, যে দলের কাছে নিজেদের কর্মীরাই নিরাপদ নয়, সেই দলের হাতে দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারে—তা ভেবে দেখার বিষয়।
তিনি আরও বলেন, যাদের নিজেদের লোকজনই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া যায় না। এ কারণে তিনি স্পষ্ট করে জানান, এমন কোনো দল বা প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হবে না, যাদের হাতে দেশ ও মানুষের জীবন নিরাপদ নয়।
জনসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সাদিক কায়েম বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়া প্রয়োজন, যারা ক্ষমতার মালিক নয় বরং জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, যদি অধ্যাপক রমজান আলী নির্বাচিত হন, তাহলে এলাকার মানুষ নিরাপদে থাকতে পারবে। তার ভাষায়, রমজান আলী নেতা হিসেবে নয়, একজন সেবক হিসেবে জনগণের পাশে থাকবেন।
সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ভোট শুধু একটি রাজনৈতিক অধিকার নয়, এটি ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নের সঙ্গেও জড়িত। তাই ভোট দেওয়ার সময় আবেগ নয়, বিবেচনা ও বাস্তবতা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নৈতিকতা ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প নেই। তিনি ভোটারদের সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যাপক রমজান আলী। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের নিরাপত্তা, অধিকার ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেবেন। তিনি জনগণের আস্থা ও সহযোগিতা কামনা করেন।
এ ছাড়া সদ্য জামায়াতে যোগদানকারী বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জনসহ ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন। তারা সবাই ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন দেশের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে ভোট প্রদান করা হয়।
এই জনসভাকে ঘিরে এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে। বক্তারা মনে করেন, জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থাই আগামী নির্বাচনের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।