
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. লুৎফর রহমানের নির্বাচনী মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিএনপির অন্তত পাঁচজন সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের লুহুরিয়া গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি প্রার্থী মো. লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। মিছিল চলাকালে হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এতে বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন নারান্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন আলা (মেম্বার), মো. আব্দুল কুদ্দুস, মো. কাজিম উদ্দিন কাজু, মো. কামাল হোসেন এবং মো. নজরুল ইসলাম। হামলার পরপরই স্থানীয় নেতা-কর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শুকুর মাহমুদ ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের মিছিলটি ছিল শান্তিপূর্ণ, তবে হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এতে দলের একাধিক নেতা-কর্মী আহত হন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হামলার খবর দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাতের মধ্যেই বিএনপি নেতা-কর্মী ও বিক্ষুব্ধ জনতা কালিহাতী শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। একপর্যায়ে তারা কালিহাতী থানার সামনে জড়ো হয়ে থানা ঘেরাও করেন। এ সময় হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিএনপি প্রার্থী মো. লুৎফর রহমান। তিনি নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার অনুরোধ করেন। পাশাপাশি তিনি প্রশাসনের প্রতি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌফিক আজম জানান, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনার পর কালিহাতী এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন এবং হামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন। একই সঙ্গে তারা দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসায় এই হামলার ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।