
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুর জেলায় ২১৯টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় রয়েছে ১২১টি, এবং জেলার আটটি উপজেলায় রয়েছে আরও ৯৫টি কেন্দ্র, যা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। তবে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রংপুর জেলা ও মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নির্ধারণে বিবেচনা করা হয়েছে ভোটার সংখ্যা, পূর্বের সহিংসতার ইতিহাস, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা, সীমানা প্রাচীরের অনুপস্থিতি, প্রার্থী বা রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের বাড়ির নিকটবর্তী কেন্দ্র এবং জনবহুল এলাকা।
জেলা পুলিশের তথ্যানুসারে, রংপুর সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৪৬টি ভোটকেন্দ্রে ১২টি, গঙ্গাচড়া উপজেলায় ৮টি, তারাগঞ্জে ৭টি, বদরগঞ্জে ৯টি, মিঠাপুকুরে ১০টি, পীরগঞ্জে ২৯টি, পীরগাছায় ১১টি এবং কাউনিয়ায় ১২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। কোতোয়ালী থানা এলাকায় ৭৫টির মধ্যে ৩১টি, হারাগাছে ৪৫টির মধ্যে ৩৫টি, হাজিরহাটে ২৪টির মধ্যে ১৫টি, মাহিগঞ্জে ২২টির মধ্যে ১৪টি, পরশুরামে ১৫টির মধ্যে ১০টি এবং তাজহাটে ২৩টির মধ্যে ১৬টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত। বাকি কেন্দ্রগুলো সাধারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
রংপুর জেলায় মোট ছয়টি সংসদীয় আসনে ৮৭৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। জেলার আসন অনুযায়ী কেন্দ্রের সংখ্যা হলো:
রংপুর-১: ১৩৯টি
রংপুর-২: ১৩৭টি
রংপুর-৩: ১৬৯টি
রংপুর-৪: ১৬৩টি
রংপুর-৫: ১৫২টি
রংপুর-৬: ১১৩টি
জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৫,৯৯,২০২, যার মধ্যে নারী ভোটার ১৩,০৬,৩৩৩, পুরুষ ভোটার ১২,৯২,৮৩৮ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩১ জন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মজিদ আলী জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রংপুরে এই নিরাপত্তা প্রস্তুতি ভোটের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।