
ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ছয়বার আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হলেও এবার আওয়ামী লীগ অংশ নিচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ এবং স্বতন্ত্র ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী সালমান ওমর ভোটের মাঠ দখলে রাখতে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত হালুয়াঘাটের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোটারদের আগ্রহ প্রধানত বিএনপি প্রার্থী এমরান সালেহ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের দিকে বেশি। নির্বাচনে আরও প্রার্থী রয়েছেন—জামায়াতের জোট থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. তাজুল ইসলাম, কমিউনিস্ট পার্টি থেকে আজহারুল ইসলাম, লেবার পার্টি থেকে মুহাম্মদ রাশেদুল হক, সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) থেকে মো. আ. রাজ্জাক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. জিল্লুর রহমান।
ভোটের মাঠে দুই প্রধান প্রার্থী—বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী—গণসংযোগ, বাড়ি-ঘর ভিজিট এবং প্রচারপত্র বিতরণে ব্যস্ত। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও তুলেছেন এমরান সালেহ। তিনি অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী অবাধে গ্রামে টাকা ছড়াচ্ছেন এবং মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, “গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবহেলিত জনপদের উন্নয়ন ও আলোকিত জনপদ গড়তে চাই।”
অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর বলেন, “ভোটের দিন কেন্দ্র দখল করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। জনগণ যাঁকে ভোট দেবেন, তিনিই নির্বাচিত হবেন। আমরা চাই নিরাপদ ভোটের পরিবেশ।” তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও হিন্দু ভোটাররা এবার ব্যক্তি ভিত্তিতে ভোট দেবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আসনটির দুটি উপজেলাতেই আওয়ামী লীগের অনেক সমর্থক এবার বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে যাচ্ছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ধানের শীষের ভোটকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। ফলে এ দুই প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।
বন্দর এলাকার শ্রমিক ইদ্রিস আলী বলেন, “আমরা এমন প্রার্থী চাই যিনি গোবরাকূড়া স্থলবন্দর সব সময় চালু রাখবেন।” ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এলাকার উন্নয়ন হবে এমন প্রার্থীকে ভোট দেব।” বয়স্ক ভোটার আবদুল জব্বার (৭৭) বলেন, “শান্তি ও উন্নয়ন চাই। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দায়িত্ব নিতে হবে।”
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, “বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে আমাদের ভোট ভালো হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও হিন্দু ভোটাররা আমাদের পাশে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “মানুষকে বলছি, নির্বাচিত হলে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি মুক্ত করা হবে এবং হালুয়াঘাটকে উন্নয়নশীল এলাকায় পরিণত করা হবে।”
সব মিলিয়ে ময়মনসিংহ-১ আসনের ভোটের মাঠে এখন বিএনপি প্রার্থী এমরান সালেহ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমরের মধ্যকার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই প্রাধান্য পাচ্ছে। স্থানীয় ভোটাররা ভোট দিতে গিয়ে উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনা করবেন।