
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দুই প্রার্থীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম কায়সার।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রচারণায় আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত উভয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এন এম কায়সার জানান, নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করে তোরণ নির্মাণ করেন। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী, এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ নিষিদ্ধ হলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় রঙিন ব্যানার ব্যবহার করেন, যা আচরণবিধির পরিপন্থী। একই সঙ্গে তিনি তার নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারিত আকারের চেয়ে বড় করে প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ হান্নান রঙিন ফেস্টুন ব্যবহার করে প্রচারণা চালান, যা আচরণবিধি ভঙ্গের শামিল।
ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমিনুল ইসলামকে ৩০ হাজার টাকা এবং বিএনপি প্রার্থী এম এ হান্নানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে অবৈধভাবে স্থাপিত রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সেগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু ও সমান রাখতে আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কোনো প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল যদি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রার্থীদের সবাইকে আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর জন্য বারবার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং সমান সুযোগ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ভবিষ্যতেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।