
মাগুরায় হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে ভোট চাওয়ার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন আমিরসহ পাঁচ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মহম্মদপুর সদর ইউনিয়নের আমির হুসাইন আহম্মেদ কাবুল, ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি মুকুল, ওবায়দুল্লাহ বীন হাফিজার, হাবিবুল্লাহ এবং এরশাদ মাগুরা-২ আসনের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী এম বি বাকরের পক্ষে ভোট প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে কম্বল বিতরণ শুরু করেন।
এই ঘটনায় হাসপাতালের পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বালিদিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আলী আকবার মোল্যাকে কম্বল দিয়ে ভোট চাইতে গেলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটিতে বাগবিতণ্ডা দেখা দেয়।
সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতের দিকে তারা হাসপাতালে কম্বল বিতরণ করছিলেন। এরপর দেড়টার দিকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩২টি কম্বল জব্দ করা হয়।
পুলিশের দ্রুত তৎপরতায় ইউএনও মোহা. শাহানুর জামান এবং মহম্মদপুর থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রাথমিক তদন্তে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়ায় আটককৃতদের থানায় নেওয়া হয়।
মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহা. শাহানুর জামান জানান, ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যাডজুডিকেশন কমিটির বিচারক আইয়বুর রহমান সিয়াম আটককৃতদের প্রত্যেককে ৩ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া উদ্ধার হওয়া ৩২টি কম্বল এতিমখানায় বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রতি ছাড় দেওয়া হবে না।
ওসি মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে আটককৃতদের বিচার কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
ঘটনাটির মাধ্যমে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সতর্কতা এবং নির্বাচনী আচরণবিধি প্রণয়ন ও প্রয়োগের গুরুত্ব আবারও浮প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচনমুখী কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা ঠিক নয়।