
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের সময় অন্তত ২০টি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের পশ্চিম রাস্তি এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সদর উপজেলার পশ্চিম রাস্তি গ্রামের সেলিম হাওলাদার ও সোহরাব বেপারীর মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই শুক্রবার বিকেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়, যার সংখ্যা অন্তত ২০টি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
হাতবোমা বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ফারুক বেপারী (৫৫), ইমরান মাতুব্বর (৩২), কালু বেপারী (৬৫) ও রিয়ন বেপারী (১৮) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া রোকন হাওলাদার (৩৫) নামের আরও একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে আহত সেলিমা হাওলাদার, আলবিদ হাওলাদার ও তুষার হাওলাদারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় মোতায়েন হয় এবং সংঘর্ষ থামাতে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে এলাকায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
সংঘর্ষের পর পশ্চিম রাস্তি এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে অনেক মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন এবং দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিরোধ আবারও প্রকাশ্যে এল। স্থানীয়রা দ্রুত শান্তি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।