
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে জোরালো প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ঘরে ঘরে, দোকান থেকে সড়কে ছুটছেন তারা। এই প্রচারণার মধ্যেই ভোটারদের ভালোবাসা, প্রত্যাশা এবং জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নির্বাচনী মাঠের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি লিখেছেন, নির্বাচন তার জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা। প্রতিদিন ভোরে বের হয়ে সারাদিন রোদ, ধুলো ও ভিড়ের মধ্যে হাঁটতে হয়, মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয় এবং তাদের কথা শুনতে হয়। ক্লান্ত শরীরে রাতে বাড়ি ফিরলেও মানুষের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হওয়াটাই তার কাছে বড় অনুভূতি হয়ে উঠেছে।
পোস্টে নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতা হচ্ছে মানুষের দেওয়া ছোট ছোট উপহার। কেউ চকলেট দেয়, কেউ আতর দেয়, কেউ নিজ হাতে শাপলা কলি বানিয়ে দেয়। এমনকি একজন নারী তার স্ত্রীর জন্য হাতে তৈরি চুড়িও উপহার দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ জোর করে হাতে বা পকেটে কিছু টাকা গুঁজে দেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, এসব উপহার মানুষের ভালোবাসার নীরব দলিল।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে ওসমান হাদীর প্রতি যে ভালোবাসা ছিল, তার অংশীদার তারা হয়ে উঠছেন। মানুষ তাদের সন্তানের মতো দেখে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয় এবং ওসমান হাদীর শূন্যতা এখনও মানুষের মনে পূরণ হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের পোস্টে উঠে আসে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিও। তিনি জানান, বাড্ডা-রামপুরা এলাকার মানুষ জুলাইয়ের দিনগুলো ভুলে যায়নি। অনেকেই আন্দোলনের সময়কার ঘটনা স্মরণ করেন এবং কীভাবে ছাত্র-জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল তা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, ঢাকার রাজপথ থেকে অলিগলি পর্যন্ত সবখানেই জুলাই লেখা আছে। কখনো দেখা হয় গুলিবিদ্ধ আহতদের সঙ্গে, কখনো শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের পর বাড্ডা-রামপুরার অনেক শহীদ পরিবার রাজনৈতিক হুমকি, মামলা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। পোস্টে এক পিঠা বিক্রেতা নারীর সঙ্গে কথোপকথনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি। ওই নারী তাকে বলেছিলেন, তিনি গুম হওয়ার পর অনেক দোয়া করেছিলেন।
নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, তার জন্ম, শৈশব ও বেড়ে ওঠা জড়িয়ে আছে বাড্ডা, রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায়। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি এই এলাকাকে নতুন করে চিনছেন এবং মানুষের সঙ্গে আরও গভীর সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, কখনো কখনো ধানের শীষের সমর্থকরাও চুপ করে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন, শুধু তাকে দেখার জন্য।
পোস্টে তিনি মানুষের নানা সমস্যা ও প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করেন। কেউ চাকরি চায়, কেউ মায়ের অপারেশনের জন্য সাহায্য চায়, কেউ রাস্তা সংস্কারের কথা বলে। কোথাও গ্যাস সংকট, কোথাও খেলার মাঠ নেই, নেই ভালো ক্লিনিক বা সরকারি স্কুল। বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়, তীব্র ট্রাফিক জ্যাম, নিরাপত্তাহীনতা ও আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, মানুষ অভিযোগ করে ভোটের সময় রাজনীতিবিদরা আসে, প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু ভোটের পর আর খোঁজ থাকে না। তবুও মানুষ কথা বলে, প্রত্যাশা রাখে এবং নতুন দিনের স্বপ্ন দেখে। তিনি নিজেকে নিয়ে বলেন, তিনি আবেগ প্রকাশে জড়তা অনুভব করেন এবং অভিনয় করতে পারেন না। তবে মানুষ যে ভালোবাসা দিচ্ছে, তাদের প্রতিও তার একই পরিমাণ দরদ রয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, নির্বাচনের ফলাফল কী হবে তা তিনি জানেন না। তবে রাজনীতির হার-জিতের ঊর্ধ্বে মানুষের ভালোবাসা এবং নিজের এলাকাকে নতুন করে চেনার অভিজ্ঞতাই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।