
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা প্রদান করতে গিয়ে ঘুষ দাবি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দুই কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন। পৃথক দুটি ঘটনায় ফরিদপুর ও কুমিল্লায় দায়িত্ব পালনরত দুই অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ফরিদপুরের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমানকে অপসারণ করা হয়। একইভাবে গত বুধবার কুমিল্লার অতিরিক্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তা শুধাংসু কুমার সাহাকেও চাকরি থেকে অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মো. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এনআইডির জন্মতারিখ সংশোধনের জন্য আবেদনকারীকে শুনানিতে ডেকে তিনি ২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ঘুষের পরিমাণ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, ঘুষ না পাওয়ায় তিনি আবেদনটি বাতিল করে দেন। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অডিও রেকর্ড ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অন্যদিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত আঞ্চলিক কর্মকর্তা শুধাংসু কুমার সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এনআইডি সেবা দিতে গিয়ে অবৈধ অর্থ গ্রহণ করছিলেন। সেই সময় এক গণমাধ্যমকর্মীর ভিডিও ধারণে বিষয়টি ধরা পড়ে। পরবর্তীতে ভিডিও প্রকাশ না করার শর্তে ওই গণমাধ্যমকর্মীকে ২৯ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও উঠে আসে। বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকেও চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এনআইডি সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সেবা এবং সেখানে দুর্নীতির কোনো সুযোগ রাখা হবে না। ঘুষ বা অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এনআইডি সেবা প্রদান কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিশনের ভেতরে নজরদারি আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।