
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে তারা যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় নিহত ওসমান হাদির স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরাও কর্মসূচিতে যোগ দেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত তারা অবস্থান অব্যাহত রেখেছেন এবং দাবি আদায়ে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে সরকার এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তার দাবি, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো চারবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় পিছিয়েছে। তিনি বলেন, দেশের নির্বাচনী পরিবেশের কারণে পরিকল্পিতভাবে তদন্ত প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, “নির্বাচন নিয়ে সরকার ব্যস্ত থাকলেও, যাদের মাধ্যমে দেশে সরকার এসেছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো রাজনীতি করতে পারছে, সেই সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলগুলো কেউই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।” তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত না করলে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন তারা।
অন্যদিকে ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে আসছে। কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চকে সহযোগিতার ক্ষেত্রে বারবার সবাই পিছিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ ও শহীদের স্ত্রী যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “অসহযোগিতা বাড়তে থাকলে ইনকিলাব মঞ্চ জনগণের সহায়তা নেবে এবং সারা দেশের জনগণকে নিয়ে যমুনার সামনে অবস্থান করবে। পরিস্থিতি সামলানোর দায়ভার সরকারের।”
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজ থেকে ঘটনাস্থলের নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ পোস্টে জানানো হয়, চারপাশে শত শত পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তাদের ঘিরে রাখা হয়েছে। পোস্টে আরও দাবি করা হয়, লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশ সদস্যরা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের পোস্টে বলা হয়, “শহীদ ওসমান হাদির হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হস্তান্তর না করা অবধি, আমাদের মেরে ফেলা হলেও আমরা একচুলও আমাদের অবস্থান থেকে সরব না।”
নির্বাচনের আগে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এখন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।