
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পটির ব্যয় ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ডলারের হিসাবে প্রকল্প ব্যয় খুব বেশি বাড়েনি। তবে টাকার অঙ্কে হিসাব করলে ব্যয় অনেক বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় মূলত টাকার অঙ্কে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি দেখাচ্ছে বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০১৩ সালের অক্টোবরে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রকল্পের কাজ ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা সংকটের প্রভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বিলম্ব ঘটে।
সর্বশেষ সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত। এতে করে প্রকল্পের মেয়াদও কয়েক বছর বেড়ে গেছে।
মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সেই ব্যয় বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির পুরো অর্থই প্রকল্প ঋণ থেকে মেটানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পসহ একনেক সভায় মোট ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে ৩২ হাজার ৯৮ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।