
অনেকেই ঘর পরিষ্কার ও আরামদায়ক রাখতে বাড়ির বাইরে জুতা খুলে ভেতরে খালি পায়ে হাঁটতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভ্যাসকে নিরাপদ বলেই ধরা হয়। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির ভেতরে বিশেষ করে শক্ত মেঝেতে দীর্ঘ সময় খালি পায়ে হাঁটা শরীরের বিভিন্ন অংশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরের মেঝে দেখতে পরিষ্কার হলেও সেখানে ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও নানা অণুজীব থাকতে পারে। রান্নাঘর ও বাথরুমের আশপাশে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকিও তুলনামূলক বেশি। খালি পায়ে হাঁটার ফলে অ্যাথলিটস ফুট, দাদ, চুলকানি, ফাটা গোড়ালি কিংবা ত্বকে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। যাদের পায়ে আগে থেকেই কাটা, ক্ষত বা ফাটল রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
শক্ত মেঝেতে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে রান্না করা, কাপড় কাচা বা ঘর মোছার মতো কাজ করতে হলে পায়ের নিচের ফ্যাট প্যাডকেই পুরো শরীরের ওজন বহন করতে হয়। দীর্ঘদিন এভাবে চললে পায়ে ব্যথা, ফোলা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। পরবর্তীতে এটি প্লান্টার ফ্যাসিয়াইটিস বা মেটাটারসালজিয়ার মতো জটিল সমস্যায় রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করছেন অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞরা।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ঝুঁকি আরও বেশি। এই রোগে পায়ের স্নায়ুর সংবেদনশীলতা কমে যায়, ফলে ছোট কাটা বা ফোসকা সহজে টের পাওয়া যায় না। মেঝেতে পড়ে থাকা সূক্ষ্ম কোনো বস্তু থেকেও গুরুতর ক্ষত বা সংক্রমণ হতে পারে। এ কারণে চিকিৎসকরা ডায়াবেটিক রোগীদের ঘরের ভেতরেও সাপোর্টযুক্ত জুতা বা স্লিপার পরার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
টাইলস বা মার্বেলের মতো শক্ত ও ঠাণ্ডা মেঝেতে খালি পায়ে হাঁটলে গোড়ালি, হাঁটু ও কোমরে বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে অ্যাকিলিস টেন্ডোনাইটিস, জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া কিংবা কোমর ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ভঙ্গিমাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের ভেতরে হালকা, নরম ও ভালো কুশনিং-যুক্ত স্লিপার বা ইনডোর জুতা ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ। এতে আর্চ সাপোর্ট থাকবে, পিচ্ছিল নয় এমন গ্রিপ থাকবে এবং বাথরুমের জন্য আলাদা জুতা ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি বাইরের জুতা ঘরের বাইরে রাখলে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকিও কমে।
সব মিলিয়ে, খালি পায়ে হাঁটা সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে পা, জয়েন্ট ও পিঠের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সামান্য সচেতনতা ও সঠিক সাপোর্টযুক্ত স্লিপার ব্যবহার বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সহায়ক হতে পারে।