
সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কোনো ব্যক্তি বৈধভাবে কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে চাইলে দেশটির মানবসম্পদ ও এমিরেটাইজেশন মন্ত্রণালয়ের (MOHRE) অনুমোদিত ওয়ার্ক পারমিট থাকা বাধ্যতামূলক। বিষয়টি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে মন্ত্রণালয়। রোববার গালফ নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া কোনো নিয়োগকর্তা শ্রমিককে কাজে নিয়োগ দিতে পারবেন না। একইভাবে, কোনো শ্রমিকও অনুমোদনহীনভাবে কাজ করতে পারবেন না। শ্রম আইন মূলত কর্মসংস্থানের সম্পর্ককে সুশৃঙ্খল করা, শ্রমিক শোষণ প্রতিরোধ এবং শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যেই প্রণীত।
বর্তমানে ইউএইতে মোট ১২ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট স্বীকৃত, যা বিভিন্ন ধরনের কর্মসংস্থান ও শ্রমিকের অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সবচেয়ে প্রচলিত পারমিট হলো বিদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগের অনুমতি, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বিদেশি কর্মী আনতে পারে।
এ ছাড়া ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে দেশে অবস্থানরত অনাগরিক শ্রমিকরা আগের চাকরি শেষ হওয়ার পর নতুন প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন। পারিবারিক স্পনসরশিপে বসবাসকারী ডিপেন্ডেন্ট ভিসাধারীরাও নির্দিষ্ট শর্তে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।
স্বল্পমেয়াদি প্রয়োজনের জন্য টেম্পোরারি ও মিশন ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে, যা নির্দিষ্ট সময় বা প্রকল্পভিত্তিক কাজের জন্য প্রযোজ্য। পাশাপাশি পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে কম সময় কাজ করার পাশাপাশি একাধিক নিয়োগকর্তার অধীনে কাজের সুযোগ দেওয়া হয়।
১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য রয়েছে জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট, যেখানে তাদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাগত দায়িত্ব রক্ষায় কঠোর নিয়ম মানা হয়।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বৈধ পারমিট ব্যবস্থা শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার সুরক্ষিত করে এবং শ্রমবাজারকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ করে তোলে। কেউ যদি এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তাহলে শ্রম আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএই সরকার শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং বৈধ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এসব আইন ও নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।