
ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এর আগেও অনেক দলীয় প্রধান আমাদের মতো নগণ্য কর্মীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। তাই নির্বাচনে জয় পাওয়ার বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, কাফরুল ও মিরপুরের একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম খানকে প্রার্থী করা হয়েছে। এই আসনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। একজন দলীয় প্রধানের বিরুদ্ধে লড়ে নির্বাচনী প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।
রোববার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়া টেকনিক্যাল এলাকা থেকে নিজের নির্বাচনী জনসংযোগ কার্যক্রম শুরু করেন বিএনপির এই প্রার্থী। সরেজমিনে দেখা যায়, শতাধিক কর্মী ও সমর্থক নিয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জনসংযোগে নামেন। এ সময় তিনি হেঁটে হেঁটে প্রচারপত্র বিতরণ করেন এবং পথচারী, রিকশাচালক, শ্রমিক, চায়ের দোকানি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। অনেকের সঙ্গে হাত মেলান, সালাম দেন এবং ভোট ও দোয়া চান। তাঁর সঙ্গে থাকা কর্মী ও সমর্থকেরা ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেন।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, তিনি বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এবং এই এলাকারই সন্তান। তাঁর ভাষায়, জন্ম থেকে বেড়ে ওঠা সবই এই এলাকায়। এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি এলাকার সবাইকে চিনি, জানি। এখানকার বাড়ির মালিক সমিতি, ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সদস্যরা সবাই চান, তাদের এমন একজন প্রতিনিধি থাকুক, যার কাছে তারা সহজেই গিয়ে এলাকার সমস্যার কথা বলতে পারবেন।”
নির্বাচিত হলে এলাকার ভাঙা রাস্তাঘাট সংস্কার, পানি ও গ্যাসের সংকট নিরসন এবং জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এলাকায় খেলার মাঠ ও ক্রীড়া কার্যক্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই প্রার্থী।
ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের মতো একজন শীর্ষ নেতার বিপক্ষে নির্বাচন হওয়ায় ভোটের লড়াই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে শফিকুল ইসলাম খান বলছেন, পরিচিতি বা পদ নয়—ভোটারদের আস্থা ও এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত জয় নির্ধারণ করবে।