
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য যেসব নিয়মকানুন প্রচলিত রয়েছে, তার অনেকটাই যেন ভেঙে দিয়েছেন চীনের এক প্রবীণ নারী। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে টেলিভিশন দেখা, মধ্যরাতে জাঙ্ক ফুড খাওয়া কিংবা দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা—এসব ‘অনিয়ম’ সত্ত্বেও ১০১ বছর বয়সেও দিব্যি সুস্থ আছেন তিনি। শুধু তাই নয়, এখনো তাঁর সব দাঁত অক্ষত রয়েছে।
এই ব্যতিক্রমী জীবনযাপনের অধিকারী নারী হলেন চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর ওয়েনঝৌয়ের বাসিন্দা জিয়াং ইউয়েছিন। তাঁর সাত সন্তানের একজন ইয়াও সংপিং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের দৈনন্দিন জীবনযাপনের নানা দিক তুলে ধরেন। এরপরই জিয়াংয়ের অভ্যাস ও দীর্ঘায়ু নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় বিস্তর আলোচনা।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াং প্রতিদিন রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত টেলিভিশন দেখেন। এত রাতে ঘুমাতে গেলেও তাঁর ঘুম ভাঙে সাধারণত সকাল ১০টার দিকে। ঘুম থেকে উঠে প্রাত্যহিক কাজ সেরে এক কাপ কড়া সবুজ চা পান করেই তাঁর দিনের শুরু। মেয়ে ইয়াও জানান, দেরিতে ঘুমালেও তাঁর মায়ের ঘুম খুব গভীর ও আরামদায়ক।
প্রায় দুই বছর আগে এই ধরনের জীবনযাপনের সূচনা হয়। সে সময় একটি দুর্ঘটনায় জিয়াংয়ের হাতে চোট লাগে এবং অস্ত্রোপচার করতে হয়। অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠলেও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে গৃহকর্ম থেকে বিরত রাখেন। দিনের বেলায় কাজ কমে যাওয়ায় তিনি বেশি ঘুমাতে শুরু করেন, আর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে রাত জাগার অভ্যাস।
বর্তমানে জিয়াং সকালে আলাদা করে নাশতা না খেয়ে ব্রাঞ্চ করেন—অর্থাৎ সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার একসঙ্গে খান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাতের খাবার খান তিনি। প্রয়োজন হলে রাত নয়টার দিকে আবার হালকা নাশতা করেন। ওয়েনঝৌয়ের স্থানীয় পেস্ট্রি ‘মাতিসং’ তাঁর প্রিয় খাবারের তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া বিস্কুট, চিপস, শাকিমা ও শুকনা মিষ্টি আলুও তাঁর পছন্দের নাশতার মধ্যে পড়ে।
১০০ বছর পার হলেও জিয়াংকে কখনো দাঁতের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ধীরে ধীরে ও স্বচ্ছন্দে সব খাবার চিবিয়ে খান।
পরিবারের মতে, জিয়াংয়ের দীর্ঘায়ুর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তাঁর মানসিক শান্তি। তিনি সহজে রাগ করেন না, কাউকে নিয়ে ক্ষোভ পুষে রাখেন না এবং শান্ত থাকতে ভালোবাসেন। নিয়মিত সবুজ চা পান ও পর্যাপ্ত ঘুমও তাঁর সুস্থ থাকার পেছনে সহায়ক বলে মনে করেন তাঁরা।
জিয়াং ইউয়েছিনের এই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ জীবনের ক্ষেত্রে কঠোর নিয়মের চেয়ে ইতিবাচক মানসিকতা ও মানসিক প্রশান্তিই হয়তো সবচেয়ে বড় রহস্য।