
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভূমিকা ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি নতুন করে ভাবার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) নির্বাহী কমিটির সদস্য ওকে গটলিশ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) জার্মান দৈনিক মর্গেনপোস্ট–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। গটলিশ বুন্দেসলিগার ক্লাব সেন্ট পাউলির সভাপতি এবং ডিএফবির ১০ জন সহ-সভাপতির একজন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রস্তাব ঘিরে ইউরোপে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন গটলিশ। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করা ইউরোপের আটটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা ন্যাটো জোটকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে—এমন সতর্কতার কথাও উঠে এসেছে।
গটলিশ বলেন, আশির দশকে অলিম্পিক গেমস বয়কটের পেছনে যে যুক্তিগুলো ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সময়ের তুলনায় সম্ভাব্য হুমকি আরও গভীর। তার মতে, বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি এখন অন্তত আলোচনায় আনা প্রয়োজন।
এদিকে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, এই আহ্বানের কারণে গটলিশকে ডিএফবি সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরোধিতার মুখে পড়তে হতে পারে। অতীতে ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে কাতারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল ডিএফবি—এই উদাহরণ টেনে গটলিশ প্রশ্ন তোলেন, তখন বিষয়টি যদি রাজনৈতিক হয়ে থাকে, এখন কেন তা অরাজনৈতিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংগঠন ও সমাজ হিসেবে সীমারেখা নির্ধারণ এবং মূল্যবোধ রক্ষার জায়গা থেকে আমরা ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছি। তার প্রশ্ন—কখন কোনো হুমকি বা আক্রমণ সীমালঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে এবং সেই সীমা কোথায় টানা হবে?
গটলিশ বলেন, তিনি শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছেই নয়, ডিএফবি সভাপতি বার্নড নয়েনডর্ফ ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছেও জানতে চান—এই সীমারেখা আসলে কোথায় টানা হচ্ছে।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে আয়োজক দেশের রাজনৈতিক ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক অবস্থান বিশ্বকাপকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে—তা নিয়ে এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।