
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চরম দুঃসময়েও জামায়াতের নেতাকর্মীরা দেশবাসীকে ফেলে কোনো দেশে পালিয়ে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও পালাবে না। তিনি বলেন, দেশকে বদলে দেওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ বছরই যথেষ্ট, যদি জনগণের সমর্থন ও আল্লাহর সাহায্য থাকে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পঞ্চগড়ের চিনিকল মাঠে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে উত্তরবঙ্গ প্রকৃত অর্থে গরিব ছিল না, বরং পরিকল্পিতভাবে এই অঞ্চলকে গরিব করে রাখা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গকে দীর্ঘদিন অবহেলিত করে ‘সৎ ভাই’য়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। এই অবস্থা পরিবর্তন করে উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানীতে রূপান্তর করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এক সময়ের প্রবহমান চারটি নদীকে আজ মৃত ও কঙ্কালসার করে ফেলা হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের শাসকরা যদি প্রকৃত অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতেন, তাহলে এসব নদীর এমন পরিণতি হতো না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেউ যদি ভোট ডাকাতি করতে আসে, তাহলে তাকে প্রতিরোধ করতে হবে। তিনি তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণদের দায়িত্ব এখনো শেষ হয়নি। নতুন করে যেন কোনো দুর্বৃত্ত বা অনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
জনসভায় তিনি দেশের প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি বিগত সময়ে বিদেশে পাচার হওয়া সব অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।
তিনি বলেন, জামায়াতের কাছে কোনো ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড বা স্বাস্থ্য কার্ড নেই। জনগণই জামায়াতের সবচেয়ে বড় শক্তি ও পরিচয়। “আপনারাই আমাদের কার্ড,”— উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের বুকভরা ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন নিয়েই একটি বেকারত্বমুক্ত ও ঋণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান তারা।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের কোনো এলাকার মানুষ যেন কারও দয়ার পাত্র হয়ে বসবাস না করে। জনগণের করের টাকা দিয়ে অন্যের সম্পদ ভোগ করার রাজনীতি জামায়াত করবে না বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন।