
বরগুনা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শুরা সদস্য ডা. সুলতান আহমদ বিএনপি ও দলটির শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে তীব্র রাজনৈতিক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপিতে যত ‘রাজাকার’ ও ‘পাকিস্তানপন্থী’ ব্যক্তি রয়েছে, জামায়াতে ইসলামীতে তার দশ ভাগের এক ভাগও নেই।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার নাচনাপাড়া ইউনিয়নের মানিকখালী বাজারসংলগ্ন এলাকায় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. সুলতান আহমদ বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি সিলেট থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে যে মন্তব্য করেছেন, তা তার কাছে একান্ত ভুল বলে মনে হয়েছে। তিনি বলেন, তারেক রহমান জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান হওয়ায় তিনি তাকে শ্রদ্ধা করেন, তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা ঠিক হয়নি।
তার ভাষায়, তারেক রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে যে মন্তব্য করেছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, বিএনপির ভেতরেই বেশি সংখ্যক পাকিস্তানপন্থী ও বিতর্কিত চরিত্রের লোক রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে ডা. সুলতান আহমদ বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একসময় যখন জামায়াতে ইসলামীর বসার মতো জায়গাও ছিল না, তখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক তার বাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুবার তার বাসায় এসে ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ও যোগাযোগ রয়েছে, সেই জায়গা থেকেই তিনি ভুল বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে ইতিহাস ও বাস্তবতা বিকৃত করা উচিত নয়।
বক্তব্যের আরেক অংশে তিনি পাথরঘাটা ও বরগুনা জেলার অতীত রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, কারা পাকিস্তানপন্থী ছিলেন—তা নাম উল্লেখ না করলেও এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষরা ভালোভাবেই জানেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যেতে চান না বলেও উল্লেখ করেন।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে দেওয়া এ ধরনের বক্তব্য বরগুনা-২ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।