
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট চুরি রোধে ভোটারদের সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, একটি ভোটই এলাকার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে, তাই কোনোভাবেই যেন ভোট চুরির সুযোগ না তৈরি হয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের পাচগাঁও গ্রামবাসীদের সঙ্গে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ভোটারদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানান।
রুমিন ফারহানা বলেন, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কেউ যেন ভোট চুরি করতে না পারে, সে জন্য প্রত্যেক ভোটারকে তাদের কেন্দ্রের পাহারাদার হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। তার ভাষায়, ভোটারদের একটি ভোটই তাদের এলাকার উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ বহু বছর পর ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এই সুযোগ কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। তিনি তার পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, তার বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহাদ ১৯৭৩ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে সে সময় তাকে কার্যকরভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি।
রুমিন ফারহানা বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এই আসনের বহু জনপদ আজও অবহেলিত রয়ে গেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ মৌলিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রয়েছে এলাকার মানুষ। তাই তিনি একবার সুযোগ চান এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করার জন্য।
তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার নিশ্চিতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন। প্রয়োজনে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে হলেও অবহেলিত জনপদগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় তিনি হাঁস প্রতীককে ভাগ্য পরিবর্তন ও নতুন শান্তির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। এলাকার উন্নয়ন ও জাগরণের লক্ষ্যে ভোটারদের হাঁস মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় রুমিন ফারহানার কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি পাকশিমুল ইউনিয়নের পরমানন্দপুর, বড়ইচারা, ফতেহপুর, হরিপুর ও বাইটবাড়িয়া গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।