
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রার্থীদের গাড়িতে হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর, নারী কর্মীদের লাঞ্ছনা এবং দলীয় কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে একাধিক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের পক্ষে কয়রাডাঙ্গা এলাকায় প্রচারণায় গেলে নারী কর্মীদের বাধা ও লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় ভোটারদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ ঘটনায় এক নারী ভোটার আদালতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন।
চট্টগ্রাম-৯ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। সিরাজউদ্দৌলা রোড এলাকায় দুর্বৃত্তরা গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ করলে কাচ ভেঙে যায়। এতে কেউ আহত না হলেও প্রচারের প্রথম দিনেই এমন হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফ্রন্ট। দলটির পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
কুমিল্লার হোমনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ মতিন খানের গাড়ি ভাঙচুর এবং বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রার্থীকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি, তবে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজের কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের দাবি, স্থানীয় বিএনপি নেতার অনুসারীরা হামলায় জড়িত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।
লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জে ফেস্টুন লাগানোকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে চারজন আহত হন। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীতে বিএনপির দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ছাড়া পিরোজপুরের নেছারাবাদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের নির্বাচনী ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। প্রার্থীর দাবি, ক্যাম্পে ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। যদিও স্থানীয় বিএনপি নেতারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে উত্তেজনাজনিত বলে উল্লেখ করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের সহিংসতা শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের জন্য হুমকি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত থাকলে একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। ভোটারদের আস্থা ফেরাতে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।