
সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগের রাতে সরবরাহের পাশাপাশি পরীক্ষার্থীকে ভর্তির নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির এক নেতার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফাঁস হওয়া কলরেকর্ডে পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্নপত্র দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করতে শোনা যায় জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারওয়ার হাবিব খোকনকে। কলরেকর্ডটি গত ১১ ডিসেম্বর সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতের বলে জানা গেছে।
কলরেকর্ড অনুযায়ী, সারওয়ার হাবিব খোকন রেভিটা বাংলাদেশ নামের একটি সংগঠনের রংপুর বিভাগীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ মুনতাসির আহমেদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলছিলেন। মুনতাসির অন্য একটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পুরো কথোপকথনের অডিও ও ভিডিও রেকর্ড করেন। পরে ওই কলরেকর্ড সংবাদমাধ্যমের হাতে আসে।
ফাঁস হওয়া কথোপকথনে সারওয়ার হাবিব খোকনকে বলতে শোনা যায়, পরীক্ষার রাত ২টা থেকে ২টা ৫ মিনিটের মধ্যে প্রশ্ন দেওয়া হবে এবং এর জন্য ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। তিনি প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়েও কড়া ভাষায় কথা বলেন। একই সঙ্গে পরীক্ষার ফল ভালো হলে ভর্তির দায়িত্ব নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
ফোনালাপে আরও শোনা যায়, পরীক্ষার পর অর্থ লেনদেন হবে এবং পরীক্ষার্থী যদি প্রশ্ন অনুযায়ী ফল করতে ব্যর্থ হয়, সেটিকে তার নিজের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে ফল ভালো হলে ভর্তির দায়ভার তিনি নেবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
এই কলরেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সারওয়ার হাবিব খোকন অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, চাকরিতে ঢুকিয়ে দেওয়ার কথা বলে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্য নিজেকে মেজর পরিচয় দিয়ে তার কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই তিনি পরিকল্পিতভাবে মুনতাসিরের সঙ্গে প্রশ্নফাঁস নিয়ে কথা বলেন। তবে সেই কথোপকথন রেকর্ড করে তাকে ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে মুনতাসির আহমেদের অভিযোগ, সারওয়ার হাবিব খোকন প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার আগের রাতে পরীক্ষার্থী জোগাড় করতে তাকে ফোন করেছিলেন। তার মতে, এ কাজে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন।
এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরশাদ হুসাইন বলেন, সংগঠনের কোনো নেতার বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে প্রশ্নফাঁস ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মে ছাত্রসংগঠনের নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার জেরে জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর কমিটির সংগঠক নাহিদ হাসান খন্দকারকে সম্প্রতি সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাকে ঘিরে এই অভিযোগ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে।