
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির এক দফা দাবিতে সাত কলেজের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে মঞ্চ নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা কলেজ ছাড়াও সরকারি বাংলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি কবি নজরুল কলেজসহ সাত কলেজের সমন্বয়ে মোট চারটি ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি মঞ্চ ভিন্ন ভিন্ন ক্যাম্পাস এলাকায় স্থাপন করা হবে, যেগুলো থেকে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ঢাকা কলেজের এক শিক্ষার্থী জানান, অতীতের আন্দোলনে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকেই এবার ভিন্ন কৌশল নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ তৈরির মাধ্যমে আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরতে চাই। যেন সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের দুর্ভোগে না পড়ে।
তিনি আরও বলেন, এই মঞ্চ থেকেই প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, অধ্যাদেশের রোডম্যাপ এবং আন্দোলন কীভাবে পরিচালিত হবে—সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। ঘোষণার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীরা তাদের পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এদিকে সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর কমিটির মুখপাত্র মো. আব্দুর রহমান বলেন, নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানোর পর অধ্যাদেশের লেজিসলেটিভ ভেটিং কার্যক্রম আগামীকালের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি জানান, ভেটিং সম্পন্ন হলে বুধবারের মধ্যে অধ্যাদেশটি উপদেষ্টা পরিষদের সভায় উপস্থাপনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সবকিছু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এগোলে বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়ে তারা শতভাগ আশাবাদী।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অধ্যাদেশটি উপদেষ্টা পরিষদের সভায় তালিকাভুক্ত না হলে আন্দোলনের কর্মসূচি জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি। সেক্ষেত্রে চারটি ‘ভাসমান অধ্যাদেশ মঞ্চ’ থেকে দল-মত নির্বিশেষে সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি।
এর আগে রোববার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাত কলেজের পক্ষ থেকে চারটি ভিন্ন ক্যাম্পাসে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ তৈরির ঘোষণা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জানুয়ারি বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সাত কলেজের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের আসন্ন বৈঠকে উপস্থাপনের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। খসড়াটি ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং সেখান থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে লেজিসলেটিভ ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্ট সব প্রক্রিয়া আগামী বুধবারের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।