
ভারতে অবস্থান করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবৃতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাশা করে না বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, এই অবস্থান ভারতের সরকারকেও আবারও জানানো হয়েছে।
বিবিসি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেন। প্রায় ১০ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “ভারতে বসে শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বিবৃতি আমরা প্রত্যাশা করি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের তৎপরতা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক কোনো উদাহরণ সৃষ্টি করবে না।”
তিনি বলেন, কিছু ভুল–বোঝাবুঝি বা অস্বস্তি থাকলেও ভৌগোলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। পারস্পরিক স্বার্থেই দুই দেশকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই গণআন্দোলনের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন আসে। এরপর থেকেই ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে দৃশ্যমান টানাপোড়েন শুরু হয়। সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং একাধিকবার কূটনীতিক তলবের মতো ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করে।
এরই মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন ও সহকারী হাইকমিশনগুলোতে কর্মরত কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত সরকার, যা সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
সাক্ষাৎকারে সংখ্যালঘু ইস্যু প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কখনোই ভারতের অভ্যন্তরীণ সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করে না। সে কারণে বাংলাদেশের বিষয়েও ভারতের একই নীতি অনুসরণ করা উচিত।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অ-হস্তক্ষেপের নীতিতেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমান সংকটময় সময়ে দায়িত্বশীল কূটনৈতিক আচরণই দুই দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।