
একটি দল পাকিস্তানপন্থি অবস্থান নিয়ে এখন বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দলটি বিএনপি ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তারা কি ভোট পাবে? জনগণ কি তাদের ভোট দেবে?”
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সিলেটের ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত ১৫ বছর ধরে এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জীবন দিয়েছে, নির্যাতন সহ্য করেছে, কিন্তু মাথা নত করেনি। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। এই যাত্রা শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার নয়, এটি বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার যাত্রা।”
তিনি এই কাজে জনগণের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে যারা বিশ্বাস করে না, যারা একাত্তরে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই গোষ্ঠী বিএনপির বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছে এবং দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানকে নিয়েও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই অপচেষ্টার উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে বিভ্রান্ত করা। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। তারা জানে কারা দেশের পক্ষে, আর কারা দেশের বিরুদ্ধে।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সভা পরিচালনা করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই সিলেট ও আশপাশের জেলা থেকে নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। মাঠ ও আশপাশের এলাকা ধানের শীষের প্রতীক, ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনী প্রচারের শুরুতেই মির্জা ফখরুলের এই বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিপক্ষের প্রতি দলের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছে। আসন্ন নির্বাচনে এই ধরনের বক্তব্য আরও জোরালো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।