
বিগত ১৬ বছরে উন্নয়নের নাম করে দেশের জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, উন্নয়নের নামে দেশে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার বড় একটি অংশ জনগণের কল্যাণে কাজে না লেগে বিদেশে পাচার হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীনরা উন্নয়নকে হাতিয়ার বানিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটে নিয়েছে।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন। সকাল পৌনে ১১টার দিকে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। মাদ্রাসা মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ও এলাকাতেও নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।
ভোর থেকেই সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে।
নেতাকর্মীদের হাতে দলীয় পতাকার পাশাপাশি ধানের শীষের প্রতিকৃতি এবং তারেক রহমানের ছবি সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে। জনসভা ঘিরে পুরো এলাকায় ধানের শীষ ও তারেক রহমানের নামের স্লোগান প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
প্রায় দুই দশক পর সিলেটে তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে নগরীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সভাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এই জনসভা ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিএনপি নেতারা জানান, এই জনসভা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলো। সিলেটের এই সমাবেশকে তারা নির্বাচনী রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেটে প্রথম জনসভায় তারেক রহমানের এই বক্তব্য নির্বাচনী প্রচারণার সুর নির্ধারণ করে দিয়েছে। সামনে আরও জনসভা ও প্রচারণায় সরকারবিরোধী এই বক্তব্য আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।