
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টানা চার দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরেছে। বুধবার (গতকাল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইউনিটটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় মেরামত কাজ শেষ হওয়ার পর বুধবার দুপুর ৩টার দিকে বয়লারে ফায়ারিং শুরু করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাত ৯টা ৩ মিনিটে ইউনিটটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হয়।
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটটি থেকে প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ইউনিটটি চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টন কয়লার প্রয়োজন হবে।
তবে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের সার্বিক উৎপাদন পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। বর্তমানে কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটির মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তৃতীয় ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরেই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। কেন্দ্রটির প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকে বন্ধ রয়েছে। এরপর গত বছরের ১৬ অক্টোবর তৃতীয় ইউনিটটিও বন্ধ হয়ে যায়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, গত দুই মাসে প্রথম ইউনিটটি চারবার বন্ধ হয়ে গেছে। বারবার চালু হলেও এটি টানা চার থেকে পাঁচ দিনের বেশি উৎপাদনে থাকতে পারছে না। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিটটি বন্ধ হওয়ার পর ১৩ ডিসেম্বর পুনরায় চালু করা হয়। এরপর ৩০ ডিসেম্বর আবার বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৫ দিন পর ১৪ জানুয়ারি উৎপাদনে ফিরলেও মাত্র চার দিন পর ১৮ জানুয়ারি আবার ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ওই দিন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।
বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্থায়ী সমাধান ছাড়া এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে জাতীয় গ্রিডে এই কেন্দ্রের অবদান অনিশ্চিতই থেকে যাবে।