
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে বিএনপির পক্ষে রয়েছেন অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় নেতারা, যার ফলে নির্বাচনী সমীকরণে দলটি এগিয়ে আছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও স্থানীয় ভোটাররা।
চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি তিনবার এবং তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ একবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯১ সালের পর চারবার বিএনপির দখলে ছিল এই আসন।
এবার সালাহউদ্দিন আহমদের বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আবদুল্লাহ আল ফারুক। এটি তার প্রথম সংসদ নির্বাচন। ফলে অভিজ্ঞ বিএনপি প্রার্থীর বিপরীতে জামায়াত প্রার্থী কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, তা নিয়ে আলোচনা হলেও স্থানীয়দের বড় একটি অংশ সালাহউদ্দিন আহমদের সহজ জয়ের আভাস দিচ্ছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা সরওয়ার আলমও এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
মহেশখালী ও কুতুবদিয়া নিয়ে গঠিত এই আসনটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও এলএনজি টার্মিনালসহ একাধিক বড় প্রকল্প থাকায় এ আসন আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বহন করে।
এখানে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ। তার বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জিয়াউল হকও মাঠে রয়েছেন। দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর কারণে এ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তার বিপরীতে জামায়াতের শহিদুল আলম বাহাদুর এবং ইসলামী আন্দোলনের মুহাদ্দিস আমিরুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
স্থানীয় ভোটারদের মতে, এটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসন। ফলে লুৎফুর রহমান কাজল ছাড়া অন্য প্রার্থীরা বড় কোনো চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক হুইপ ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হাফেজ মাওলানা নুরুল হকও নির্বাচনে রয়েছেন।
মনোনয়ন ঘিরে শুরুতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দেখা দিলেও পরে তা প্রশমিত হয়। বর্তমানে ভোটের মাঠে অভিজ্ঞ শাহজাহান চৌধুরী স্পষ্টভাবে এগিয়ে আছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
সার্বিকভাবে কক্সবাজারের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতেই বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কেবল কক্সবাজার-২ আসনেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বাকি আসনগুলোতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীরা জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।